ফাটা পায়ের দেঁতো হাসি
ফাটা পায়ের দেঁতো হাসির বর্ণনাআমার কম্ম নয়। যেদিন জানলাম, দুশ্চরিত্র পা
শুধু রঙিন জুতোয় ঢুকতে চায়।
সেদিন থেকেই বুঝেছি,
পা-গুলো গণতন্ত্র ভুলে গেলে কেউ তাদের
সাবানফেনার ইয়ার্কি
অথবা ভেসলিনের কত্থক উপহার দেবে না।
সারিসারি হেঁটে চলেছে মেঘ,
মেঘ থেকে জল পড়াকে যারা আকাশের পেচ্ছাব
বলে,
তারা নিকি মারা নখের আনন্দ আর
আক্কেল দাঁত ওঠা পুঁইগাছটির যন্ত্রণা
বুঝতে পারে না।
কিন্তু না বুঝলে কী হবে,
কলকেফুলের ৬৪ কলা
প্রজাপতির লজ্জাবস্ত্র ঢ্যাড়শের ভক্তিযোগ
আর চোখে আলপিন ফোটানো ব্রা-য়ের অহংকার,
সব কিছুতেই অস্বস্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে,
ফাটা পায়ের দেঁতো হাসি।
সজনেফুলের এককোষী বিরহ
মিথ্যাবাদী ফড়িং চেনারউপায় আমাকে শ্রীতমা বলেছিল।
আজ মনে নেই।
তাহলে কি আমি উইপোকার ফুটুনি
রাজহাঁসের জ্বর আর জবাফুলের কোমরের
ট্যাট্টুগুলোকে পাত্তা দিইনি বলে,
বিস্মৃতি রোগে ভুগছি?
কানাবেগুন কাক ডাকের মিমিক্রি করে,
কা কা করে ডেকে উঠলে, পুঁইগাছটি
জেনে যায়,
ভবঘুরে কাঠবেড়ালিরা কেন
বোবা রোদের চেয়ে জামছায়ার ডালনা
বেশি ভালোবাসে।
জানালার জা এবং ননদেরা
প্রেমে ফেল মাছরাঙাটির শামুকচর্চা নিয়ে
কথা বলছে,
এতে সজনেফুলের এককোষী বিরহ শেষই
হবে না। কীভাবে বোঝাব?
আলুর দাম বেড়ে যেতে পারে
আলজিব থেকে বেরিয়ে আসাঅজস্র ধ্বনির ডাকনাম আমি জানি না।
বুঝতে পারছি না, এতে কি আমার বদহজম হবে?
যাঁরা গুগল সার্চ করে দেখছেন,
কত কিলোগ্রাম মিথ্যা বলার পর চোখে
ক্যাভিটি হয়,
অথবা যাঁরা জানতে চাইছেন,
পেঁপেগাছের সঙ্গে পলাশগাছের বিয়ে হলে গাছের
ধর্মনীতি কতটা বিপন্ন হয়,
তাঁদের বোঝাতে পারব না,
এক-বোতল পেপসির চেয়ে, এক-গ্লাস
নুন-কাগজির শরবত অনেক বেশি চরিত্রবান।
আকাশে উড়ে যাচ্ছে মেঘ।
এখনো যদি,
নদীর সাঁকোটি মেরামত না-করা হয়,
তাহলে আলুর দাম বেড়ে যেতে পারে।
নিকি মারা নখের উল্লাস
চিরুনির চিরুনি তল্লাসিতে২১টা উকুন আর ২২টা নিকি ধরা পড়ল।
ওদের দেখেই নিকি মারা নখের উল্লাস ১০০ গুণ
বেড়ে গেল।
যেসব জোনাকি উইপোকার ফুটুনি দেখে বিরক্ত,
যেসব ভ্রমর ফুলের কাছে চুম্বন ফেরি করে। আর
যেসব ফড়িং গাছতলার ছায়াকে
রোদের মনসামঙ্গল শোনায়,
তারা কখনো সধবা জবাগাছটির
৭ রকমের বিরহ ৮ রকমের অভিমান ৯ রকমের
শোক আর ১০ রকমের মিলন-ভঙ্গিমার
খবরই রাখে না।
নখ কি এসব জানে?
না জানাই স্বাভাবিক। তবে যে নখগুলি
নেলপালিশ লাগিয়ে নিজেকে পবিত্র করে,
সেই নখগুলিই যখন নিকি মারার উল্লাসে মেতে
ওঠে,
তখন লিপস্টিক তাকে ক্ষমা করে না।
জুঁইফুলের পারিবারিক বিবাদ এবং
জুঁইফুলের পারিবারিক বিবাদেজবা মাথা ঘামাবে না। এই সত্যটাই সকালবেলা
মিথ্যা হয়ে গেল।
এখন স্পষ্ট,
চাঁপা শিউলি জুঁইয়ের বোনের পক্ষে,
বেল গন্ধরাজ জুঁইয়ের ভাইয়ের পক্ষে,
গোলাপ চন্দ্রমল্লিকা জুঁইয়ের মায়ের পক্ষে,
পদ্ম আর রজনিগন্ধা জুঁইয়ের বাবার পক্ষে,
জুঁইয়ের পক্ষে সে একা আর তার কিশোরী গন্ধ।
জুঁইয়ের পারিবারিক বিবাদে সব ফুল জড়িয়ে
পড়ছে।
গন্ধরাজ বিপক্ষের ফুলগুলোকে শুয়োর কুকুর
বলে চেঁচাচ্ছে।
রজনিগন্ধা বিপক্ষের ফুলগুলোকে মা তুলে
কথা বলছে।
পদ্ম গন্ধরাজকে দুশ্চরিত্র বলছে।
চন্দ্রমল্লিকা জুঁইকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে।
চাঁপাফুলের মেয়ে গালি দেওয়া
মাকে বলছে, মা তুমি ঘরে গিয়ে টিফিন করো।
আমি দেখছি। এরপর দিদি আসবে,
সে কালো কথায় এম.এ.।
ফুলগুলো একটু একটু করে নীচে নেমে যাচ্ছে।
ওরা যতই নীচে নামুক,
মানুষকে হারাতে পারবে না।
কবিতার এনার্জি-ড্রিংক
সমস্যাটার সমাধান হয়নি।তবু যখন আমি জেনে গেছি, জুঁইফুলের ইংরেজি
জেসমিন তখন আর ভয় কীসের?
আকাশে মেঘ-ছুঁড়িরা এক্কাদোক্কা খেলছে।
ওদের ব্লাউজ খোলার সম্ভাবনা কম। তবু চাতক
যেভাবে বেহালা বাজাচ্ছে, দু-এক গ্লাস
দিলেও দিতে পারে।
আজ ভুতোর বউভাত।
আর এই দিনেই আলু পটল টম্যাটো আর
মাংসের দাম বেড়ে গেল। তাই ভুতো জিবের
আগুনে ভূত ভাগিয়ে দিচ্ছে।
লাউপাতা নামের মেয়েটিকে মনে আছে?
শ্রবণে বিয়ে হয়েছে। তাঁর বরের নাম লাউমাচা।
আমি এটাকে রাজযোগ বলার পরই,
উড়তে উড়তে মন্ত্রী কোটাল সেনা সেনাপতি আর
হাতি ঘোড়ার কথাও এল।
ঘোড়া আড়াই পায়ের বেশি লাফাতে পারে না।
কেন পারবে না?
কবিতার এনার্জি-ড্রিংক খাইয়ে দিলে ঘোড়া
দশ পায়ের বেশি লাফাবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন