পেন্সিলে আঁকা জীবন

সুধাংশুরঞ্জন সাহা

 


(৭)
এবার ফেরাও আলো, অন্ধকার ছিঁড়ে,
ফেরাও না-তোলা প্রশ্ন, অভাবী সময়।
ভ্রমণের অছিলায় শব্দ মুখরতা
আগুনের স্তবে হোক মাটি শস্যময়।

সীমানা মানে না কোনো পাখির উড়ান,
আমাদের আছে শুধু ক্ষুদ্র অভিমান।





(৮)
নিভু নিভু আগুনের আঁচে পুড়ে যায়
পড়ে থাকা কবেকার ফসলের মাঠ।
সংক্রামিত দুচোখের গাঢ় অন্ধকার,
বিকল্পের পথরেখা খোঁজে আলো-পাঠ।

অবাধ্য রাতের কাছে বসে ভাবি একা,
শিখে নেব প্রত্যাখ্যান যদি মেলে দেখা।






(৯)
নখে লেগেছিল গাঢ় বিকেলের রঙ,
রাত আলাপে যা ছিল চুপকথা গান।
মেঘ কুয়াশায় নাকি ভিজেছিল ঘাস,
শব্দের আড়ালে ছিল ঋতুর আখ্যান।

সমাপ্তির কথামালা ফুরোয় না আর,
শরতের পথে পথে হেমন্ত আবার।







(১০)
ক্যানভাসে জুড়ে ছিল লক্ষ্যভেদকথা,
ছিল ঋতুবদলের গোপন আভাস।
যে মায়াদর্পণে ভেসে উঠেছিল গাছ,
গাছের আদলে ছিল মনের আকাশ।

শীতঘুমে লেগেছিল ঘন ঘন চোখ,
সেই চোখে ফুটেছিল সমুদ্রের শোক।






(১১)
দুচোখে মেখেছি কালো, সীমাহীন পাপ,
পাতার আগুন জ্বেলে শীতের আলাপ।
পেন্সিলে লেখা জীবন ছিল কি আমার?
মুছতে পারে কি কেউ সময়ের ছাপ!

তবু আমি বারবার তোমাকেই খুঁজি,
প্রকৃতির মাঝে আছে জীবনের পুঁজি।






সুধাংশুরঞ্জন সাহা

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন