রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা

লাইন অফ রিভল্যুশন অথবা দু লাইন


[ লাইন লাইন লাইন চাই
  লাইন দিয়ে বাঁচতে চাই
  এ লাইন বাঁচার লাইন
  কমরেডস্ বোন ও ভাই
  আল্লা হে জয় মা তারা
  বলি থাম একটু দাঁড়া
  পুকুরের ঐ পাড়ে না
  পুকুর কই ? জল থৈ থৈ ?
  তাতে কী ? লাইনে দাঁড়া ]

১)
লাইনটা সোজা করুন


পুরুষরা পুরুষের দিকে।
মহিলারা মহিলাদের দিকে।
বাচ্চারা——

লাইনের প্রথমে কে আছেন ? কে  কে ?
হয়ে গেলে চুপচাপ সরে পড়ুন।
কী হয়ে গেল ? কী হচ্ছে ?

সূর্যটা কি আজ পশ্চিমে একটু তাড়াতাড়িই ঝুঁকে পড়েছে ? চাঁদ রয়েছে কি খেজুর গাছের পাতার জাফরিতে আটকে ? সান্ধ্য দাওয়ায় বসে জীর্ণ গামছায় নুনঘাম মুছতে মুছতে কে কে ভুলে যাচ্ছে সকাল থেকে লোহার সাথে লড়াই করে সব হাত লোহার হাতুড়ি হয়েছে ?
এ শরীর লোহার শরীর।
এ মনে——

এখনও দাঁড়িয়ে আছেন লাইনে ?
এখনও সুশৃঙ্খল ?
পুরুষরা পুরুষের দিকে,
মহিলারা মহিলাদের দিকে,
শুধু বাচ্চারা, কেঁদো না,


২)
কথা না বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ান


আর একটু বেশি বাঁচার জন্য।

বেকারত্ব আর পতিত জমিকে আরও একটু প্রমাণ করার জন্য।
শীর্ণ শরীরের যাবতীয় রোগকে আরেকটু এগিয়ে দেবার জন্য।
প্রিন্টার থেকে বেঁচে থাকার সমস্ত হার্ডকপি নেমে আসার জন্য  আরেকটু অপেক্ষা করুন একটা গোলাপি হাসির জন্য। সেই গম চাষিটির জন্য। কামারশালায় হাপরের দীর্ঘশ্বাসের জন্য।

একটা আপেল কিংবা ধারালো ছুরি কিংবা সারাদিনের রোদে পুড়ে যাওয়া বিকেল কিংবা রেললাইনের ধারে কাশফুলগুলোর সাদা ধীরে নিবে যাওয়ার জন্য।

কথা বলবেন না, প্লিজ, আপনি লাইনেই আছেন।
আপনার ক্ষিদে ঘুম কাম ক্লান্তি ঘাম এবং যাবতীয় সবুজ ফেলে এসেছেন প্রাচীন প্রস্তর যুগে কারণ এই মুহূর্তে আপনি লাইনে আছেন,
লাইনেই দাঁড়ান,
দাঁড়িয়েই থাকুন, 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন