ট্র্যাডিশন

(অনুগল্প)

হাত পা ছড়িয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে বডিটা।লালচে রক্ত। 
এখন রাত এগারোটা বেজে ঠিক সাতাশ মিনিট।রাস্তাটা নির্জন হয়ে এসেছে। ফাঁকা পিচ রাস্তা চিরে মাঝে মাঝে বাইক আর হুস করে চলে যাচ্ছে গাড়ি।এখনও লোকের পায়ের আওয়াজ পথে,একটা করে ট্রেন এলে।
মোহন মন দিয়ে নিরিক্ষণ করে।নাহ।নড়ছে না। রাত বেশি হয়নি।বেশ বেগ পেতে হয়েছে কাবু করতে। অবশেষে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে এবার।ওর হাতে এক কণা রক্ত।নিজেরই।
মোহন বিস্ফারিত হয়ে দেখছে।সামনে পড়ে থাকা রক্তাক্ত প্রাণ।হাত পা ছেতরে।
মোহন নিশ্বাস ফেলে শান্তির।ভাবা যায়!
 মানুষ,যার হাতে একে ফর্টি সেভেন।মানুষ চাঁদে যেতে পারে।মানুষ দেশের পর দেশ জয় করে ফেলে। স্বর্গ মর্ত্য পাতাল এক করে ফেলল।সেই সর্বশক্তিমান মানুষকে 
একটা ক্ষুদ্রতম মশা মেরে ফেলতে পারে বিনা অস্ত্রে শুধু একটি দংশনে।
ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড।
তুচ্ছতম র হাতে মহা শক্তিমানের
পরাজয়।মোহন এখন টের পায় মানুষ ছাড়াও হুল ফোটায় আরও কেউ কেউ।মশকনিবারণ ধূপে ভরসা নেই মশারি ঘরে রাত্রিবাস এখন মোহনের।আলোটা নিভিয়ে দেয়। চারপাশ আরও একবার নিবিষ্ট হয়ে শোনে পণপণ আওয়াজ আছে কিনা।তারপর মাথা থেকে পা চাদরে ঢেকে ঘুমিয়ে পড়ে।





জয়িতা ভট্টাচার্য 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন