(অলংকরণ: বিপ্লব দত্ত)







কিশোরী উপাখ্যান


            
১)
বিকেলে ভীষণ একা 
চা এর কাপ, তুমি আমি মুখোমুখি
শেষ চুমুকে ঠোঁটের ভাষা
উত্তপ্ততায় ভরপুর এক শরীরী আসক্তি
দ্রুত ঘন নিঃশ্বাস
পলকে পলকে দীর্ঘ কথোপকথন
রেশটুকু থেকে যায় ডিহাঙ নদীর বাঁকে।

    



                
২)
রাতে পাহাড়ি জ্যোৎস্না
ঘন  চুম্বন
শিহরিত আবেগ,  বৃষ্টির আদর 
হাত ধরে গভীর অরণ্যে লুকিয়ে থাকা
অতল গভীরে নিমজ্জিত।





                  
৩)
হাজার টানে আসনি 
পথ চাওয়া বেলা বয়ে যায়
অপলক দৃষ্টি কাঙ্খিত আবেগ
ছিন্ন দেহ গুলির আওয়াজ
কৈশোর স্রোতে ভাসমান।




                     

৪)   
স্রোতের তাড়নায় ব্যস্ত ছুটছে 
পিঁপড়ের দল এক এক করে
বেগতিক নয় লাইনের রেখা
নেই আড়ম্বর। 
তবুও:  কোথাও নেই স্বস্তি চোখ পাকান
বন্দুকের আওয়াজ কান্নার রোল।
 



  
                         
৫)
আমার তোমার ভালোবাসা যেন
আজগুবি গল্পের রূপকথা
সায়ন হাত বাড়াল
তীব্র স্রোত চমকে উঠি
উদিত রবি স্বপ্নের জাল বুনলাম
মিথ্যে শুধু মিথ্যের আনাগোনা।

  




                 
৬)
ভাবতেই পারিনি কোথায় হারিয়ে 
যেতে যেতে পলাশের বনে আগুনের শিখা
বসন্তের আগেই পালাব ভাবলাম
কিন্তু!
না:
আবিরের রঙে রাঙ্গাল শরীর
কি যে ভালো লাগা
কেঁপে উঠলাম বুকে রক্ত।






                    
৭)
সোনাঝুড়ির বনে সকালে সূর্য্যের খেলা
সাঁওতাল গ্রামে মেয়েদের সাজের ঘটা।

মাথায় ফুলের গোছা
কানে ঝুমকো
শাড়ীর বাঁকে বাঁকে গন্ধ
সোদা মাটির স্বাদ গ্রহণ করলো 
অশরীরী শরীর কে।






         
৮)             
জীবন অনেক কথা বলে
 কথার ফাঁকে মালা গাঁথে
নিঃশেষ করে যায়, বার্তা আনে
 নতুন কে।
পরিহিত বস্ত্র মিলে যায় চিতার আগুনে।

 




                    
৯)
এই যে বলো ভাবছো কি
আকাশ টা কি দেখবে ছুঁয়ে?
বেশ তো আছি একা!
এক পলকে দেখবো দুচোখ ভরে।






                        
১০)
এলোমেলো ভাবনাগুলো মিলে গেল সহজে
আবল তাবোল ডিগবাজি খায় বাস্তবের ঘাড় মোটকে
এত সহজ নয় বাস্তবের মানে বুঝতে
বেপরোয়া চিন্তাগুলো তাড়া করছে সবেগে
আমার আমি রই যে চুপ করে।







মহুয়া দাস 

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন