অমিত চক্রবর্তী-র কবিতা







আসল নকল


বার্ড ফিডারে ঘুরে বসে প্রেমিক কার্ডিনাল, খানিকটা অসহায়, খানিকটা

সংঘবদ্ধ একা, তাই সে সঙ্গী এঁকে দেয় প্যাস্টেলে বা সন্ধ্যাকালীন

জলরঙে। আমাদের দূরত্বগুলি এইভাবে ফেরত আসে আবার,

আবছা মনে, আঙিনায়, আধো বুলি নিয়ে ছোট্ট পরিসর, তোমার যাবার

কোথাও জায়গা নেই শহরে?

                                দুর্ঘটনা আসতে থাকে একের পর এক,

স্থিরতা উবে যায়, মেঘের সুতোর মত জলবাষ্প, ভরসার হাত

এদিকে উধাও, বেঘোরে বিশৃঙ্খলা, পিছুটান,

গুলিয়ে ফেলি আসল নকল। 

 

তাই সে সঙ্গী এঁকে দেয় দোভাষী নকশায়। নিভু নিভু

মেটে রঙ ছিমছাম করে, বানায় মোমশিল্প, অথবা বিদুষী

সেলাইয়ের ফোঁড়, প্যাস্টেল বা জলরঙে আমরা

গুলিয়ে ফেলি আসল নকল, বন্ধু অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী।

 

একগুচ্ছ দমকা বাতাসে

আবার উড়ে যায় সেই রক্তমাংস পাখার বিহঙ্গ, বসে থাকি                                                                       

মূঢ়, অগোছালো, লটারির টিকিট হারিয়ে ঝঞ্ঝাট,

আঁকড়ে ধরি সস্তা ফটোকপি, জেরক্স, শার্টের পকেটের

বস্তাবস্তা ফুটো।  






পুরোনো দুঃস্বপ্ন

একঘন্টা লম্বা চুমু দিয়ে দিন শুরু

অথবা সে কি শুধুই ভোরের স্বপ্ন, দেয়ালা বা

প্রেমখেলা, চিত্রলেখা শুনছ,

নিরাশার একটা সূক্ষ্ম আঠা আছে, একটা

সেলোটেপ স্বভাব, এক বার গায়ে ধরলে

আর ছাড়তে চায় না প্রীতি।

                         নিঃশর্ত তো কিছুই নয়,

ভালবাসা নয়ই, ইদানীং তাও পরাণমাঝি

হাঁক দিলে একটু থমকানো, পা টিপে টিপে

সখী ভাবনা কাহারে বলে, আমি দিনান্তে

একবার পাহাড়ি সূর্যের পথে, অবতলে

ছুটছি তো ছুটছিই – এইভাবে তোমায়

খুঁজেছিলাম পুরোনো দুঃস্বপ্নে।

 

স্বাভাবিক এ ধরণের সরুজাল বা কুয়াশার

উবে যাওয়া, মায়া কিন্তু সহজে যায় না।

এই ছবিটি আমি মাথার মধ্যে ভরে ঘুরে বেড়াব,

দূরে, বাহিরে, ভেসে বেড়াব সামনে,

তুমি কিন্তু একবারও ঠাহর পাবে না, একফোঁটা


ওজন কমবে না আমার বেদনার ভারে।







সারারাত নরম বচসা

চাঁদ সরে যাচ্ছে দূরে, ডাইনোসরেরা আরো বড় চাঁদ দেখেছিল

এই তথ্য নিয়ে আমার বয়স গুণতে ইচ্ছে করে, যাকে বলে

কাউন্টডাউন আর রকেট লঞ্চ, তোমার সঙ্গে আজ

রক অ্যান্ড রোল অথবা হিপ হপ।

 

সময়গোণাটা ঠিক ছিল না আমার কোনোদিনই,

কালসাম্যে বিরাট ফারাক –

যখন তোমার মনে নায়াগ্রা বা খোনে ফাপেং, জলোচ্ছ্বাসে

তিমি উঠছে নিদ্রার পর, আমি তখন জড়সড়

ফুটো বর্ষাতিতে, ভিজে জাপ, ন্যাতানো, সেলফিতে মগ্ন।

মাথার মধ্যে একটা যুদ্ধ চলছে এখন শেল্ফ স্পেস নিয়ে,

কোক বনাম পেপসি, স্বল্পমেয়াদ বা দীর্ঘ দিনের স্মৃতি নিয়ে

চূড়ান্ত হাতাহাতি।
আমি নিশ্চয়ই রাজি হয়েছিলাম বসন্ত শুরুর

আগেই বেড়িয়ে পড়তে, ছেঁড়া ক্লাসিক গ্রন্থে, শীতের

পাতায় ধীশক্তি খুঁজতে। আলো বদলে গেছে এখন, আরো

পুরোনো হয়েছে চাঁদ, উল্টোরথের মেলায় এবার জিলিপি আর

ফুচকার সময়, হিপ হপে শাফল অথবা স্পিন, এখন

লজ্জা ছাড়া শরীর ভালবাসা। সারারাত নরম বচসা।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন